• ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

১৬ মে: ঐতিহাসিক জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ দিবস

জমিদার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অত্যাচারী হিন্দু জমিদারদের জমিদারি বিলোপ্ত হয়। আজ বাংলাদেশের মুসলিম কৃষক ও নিন্ম বর্ণের হিন্দুদের আনন্দের দিন।

১৯৫১ সালের ১৬ মে তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকার আইন পরিষদে বিল পাশ করে জমিদারি উচ্ছেদ করে । এর ফলে পূর্ববাংলার কৃষক ও সাধারণ জনগণ জমিদারদের জুলুম থেকে রক্ষা পায় ।

বাংলায় ব্রিটিশদের আগমনের ফলে একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয় । কলকাতার হিন্দু বেনিয়ারা নিজেদেরকে একটি সুবিধাজনক অবস্হানে আবিষ্কার করে, যারা এক সময় ইংরেজ ব্যবসায়ীদের ব্যবস্হাপক ও গোমস্তা হিসেবে কর্মরত ছিল ।

এসকল গোমস্তাদের ভূমিকা শুধু দেশীয় ব্যবসায়ীদের ধ্বংস করেনি,সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহকে কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখী দাঁড় করিয়ে দেয় । সেই সময় গ্রামবাংলায় ইংরেজদের ছত্রছায়ায় তৎকালীন হিন্দু গোমস্তারা ব্যপক দৌরাত্ম্য ও লুটপাট চালিয়েছেন ।

এ সম্পর্কে এক ইংরেজ অফিসার অভিমত দিয়েছেন,”কেবল মাত্র একটি গোষ্ঠীকে ইংরেজরা ও তাদের আইন কানুন রক্ষা করে চলে,আর সেটি হলো তাদেরই খাস গোমস্তা,তাদের লুটপাটের ফলে খোদ ভারতীয় উপমহাদেশের অস্তিত্ব হয়ে পড়ে হুমকির সন্মুখীন”। (মুসলিম স্ট্রাগল ফর ফ্রিডম ইন বেঙ্গল- মুঈন উদ-দীন আহমদ খান, পৃষ্ঠা ১৫-১৬)

ব্রিটিশদের সহযোগিতায় এই হিন্দু গোমস্তরাই জমিদার হিসেবে আবির্ভূত হয় । যদিও মুর্শিদ কুলি খানের শাসনামল থেকেই হিন্দুরা বাংলার অর্থ-সম্পদ কুক্ষিগত করতে শুরু করেন ।

মুসলিম শাসনামলে গ্রামীণ সমাজে জমিদারদের সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হতো এবং তাদের এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটলে সেই ডাকাতদের এবং লুন্ঠিনকৃত জিনিষপত্র জনসম্মুখে হাজির করতে জমিদারগণ বাধ্য থাকতেন ।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি১৭৯২ সালে এই ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে দেয় । সরকারের এই নতুন নীতির সুবিধা নিয়ে নব্য জমিদারগণ ডাকাতের ঘাঁটি গেঁড়ে বসে । লুটপাটের মালামাল ভাগ বাটোয়ারার বিনিময়ে এসব সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতো এইসব নব্য জমিদাররা ।১৯৪৪ সালের ক্যালকাটা রিভিউয়ে প্রকাশিত হওয়া এক নথিতে আয়ের উৎস হিসেবে জমিদারদের বিরুদ্ধে ডাকাতদের নিয়োজিত করার প্রমান উঠে আসে ।

এছাড়াও ১৭৯৩ সালে ঘোষিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাবে রাইয়তরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । ১৮৩০ সালে বুকানন সাহেবের বর্ণনায় জানা যায়, অত্যাচারী জমিদারেরা খাজনা আদায়ের জন্য তাদের প্রজাদেরকে শারীরিক নির্যাতন এমনকি বন্দী পর্যন্ত করে রাখতো ।

সূত্র: মুসলিম স্ট্রাগল ফর ফ্রিডম ইন বেঙ্গল- মঈন উদ-দীন আহমদ খান । পৃষ্ঠা: ১৭,১৮,১৯

Tags: , , , , ,

Rent for add