• ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

ঢাকায় নবাবী ঐতিহ্যের মধুর ক্যান্টিন

ছবিতে : তৎকালীন নবাবদের বাগানবাড়িই হলো আজকের মধুর ক্যান্টিন। ১৯০৪ সালে তোলা ছবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবেই পরিচিত। ১৯৪৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলন, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—মধুর ক্যান্টিন ছিল এ রকম সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অলিখিত হেডকোয়ার্টার্স।

জনশ্রুতি আছে, মধুর ক্যান্টিন ছিল বাগানবাড়ির নাচঘর। তবে হাকিম হাবিবুর রহমানের মতে, এটি বাগানবাড়ির দরবারকক্ষ ছিল। এখানেই ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে নকরী চন্দ্রের ছেলে আদিত্য চন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন। আদিত্য চন্দ্র ব্রিটিশ পুলিশের কাছ থেকে ৩০ টাকার বিনিময়ে দুটি শণের ঘর কেনেন। তার একটিতে দোকান পরিচালনা করেন।

আদিত্য চন্দ্রের ছেলে মধুসূদন দে ১৯৩৪-৩৫ সাল থেকে বাবার সঙ্গে ব্যবসার হাল ধরেন। প্রথমে এই ক্যান্টিন ছিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। এর একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তার উত্তর পাশে রাস্তা ঘেঁষে ছিল মধুর ক্যান্টিন।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরিত হলো নীলক্ষেতের কলাভবনে। আর সেই সঙ্গে মধুর ক্যান্টিনও চলে এল তার পাশেই ঢাকার নবাবদের দরবার হলে।

আগে এটি মধুর স্টল, মধুর টি-স্টল, মধুর রেস্তোরাঁ- বিভিন্ন নামে ছিল। কিন্তু অচিরেই এটি মধুর ক্যান্টিন নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনের বীজ রোপণের কেন্দ্রভূমি ছিল মধুর ক্যান্টিন

সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী, শিল্পী, শিক্ষার্থী, ছাত্রনেতা, রাজনৈতিক কর্মী—সবারই ঠিকানা ছিল মধুর ক্যান্টিন। মধুসূদন দে সব প্রতিরোধ আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের সহযোগী ছিলেন। তাঁর মধুর ক্যান্টিন বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলনে কখনো সরাসরি, কখনো নেপথ্যে, কখনো সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রোষানলে পড়েন মধুসূদন দে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মধুদা, তাঁর স্ত্রী, বড় ছেলে ও তাঁর নববিবাহিত স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

সেই ইতিহাসসমৃদ্ধ মধুর ক্যান্টিন আজও গতিময়।

Tags: , , , , ,

Rent for add